বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৯

আত্ন-কথন (বর্ষা সময়)

#বর্ষা-সময় #মাইক্রো-ব্লগ #আত্ন-কথন


১।
বাইরে প্রচন্ড বাতাস, একেবারে উথাল-পাতাল বাতাস, সাথে হাল্কা ঝির ঝির বৃষ্টি, গা হিম হিম করার জন্য যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকু। মেলবোর্নের এ সময়টা এরকমই, গায়ে কয়েক স্তরের কাপড় না থাকলে ভীষণ বিপদ – দিন শেষে তখন বাসায় আসতে হবে কাশতে কাশতে, কাপতে কাপতে।  

২।
পৃথিবীর কোথাও এখন ঝির ঝির করে তুষার পড়ছে, আর এখানে পড়ছে বৃষ্টি। দেশে থাকতে সব চেয়ে পছন্দ ছিল আষাঢ়-শ্রাবণ মাস। আমি যেহেতু কখনই খেলা পাগল ছেলে ছিলাম না, তাই ঘরের বাইরে যাওয়ার থেকে বাসায় বসে ভাবনা চিন্তাতেই বেশি আনন্দ পেতাম। এখনকার মতো মনের ভাবনা পরিহারক xbox বা playstation ছিল না আমার, কম্পিঊটার ও ছিল বড্ড পুরোনো-ধীর। চারতলা বাসার দোতলায় এর কোনার বড় ঘরটা ছিল আমার, সাথে বড় বারান্দা। বাসার পুরোনো কাঠের বানানো চেয়ারটায় বসে গ্রীলের ফাঁক দিয়ে সামনে বড় মাঠটায় যখন মুসল ধারে বৃষ্টি পড়তো – তখন মনের কোথায় জানি আনন্দ লাগতো, বড় আনন্দ হতো সামনের শক্ত পীচের ওপর বৃষ্টি পড়ার শব্দ শুনতে, আর সাথে হালকা ঠান্ডা বৃষ্টির আঁচ যখন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যেত।

৩।
বর্ষার গল্প কখনও শেষ হয় না, সাথে যদি থাকে মনের মাঝে গল্প লেখার ছল। আরও ছোট কালেও বৃষ্টি দেখেছি বসে বসে। তখন বালক বয়স, বাসার সামনে ছোট্ট মাঠ, বড় ফুলের বাগান, পাশে সবজি, ফলের বাগান – বাসা ভর্তি গাছ-গাছালি। অথচ বাসাটা একেবারে শহরের মাঝখানে, অনেকটা বাংলো বাড়ির মতো। বাসার সামনের গাছে পাখি বসতো, টিয়া পাখি, শালিক পাখি, আরও কত যে নাম না জানা পাখি – বৃষ্টির মধ্যে ভিজে একসা হয়ে থর থর করে কাপতো। পাখির কাপা কাপি দেখি মনটা অস্থির হয়ে উঠতো, কিন্তু কিচ্ছু করার ছিল না। আর এখন আমার ছোট ছেলেকে তার মা, ভয় দেখায় বার্ড বার্ড বলে – কি অদ্ভূত!

সোমবার, ৯ মে, ২০১৬

আত্নকথন (যখন-তখন)

৯ই মে, ২০১৬

কেমন জানি জীবন চলছে, ঠিক যেন বুঝে উঠতে পারছি না। সময়গুলো একটা মধ্যবয়সী জীবনে আটকে ফেলেছে – ঘুম, কাজ, একঘেয়ে ট্রেন, বাসা, বাচ্চাকাচ্চা, এলো-মেলো মন না লাগানো কাজ, তন্দ্রা, আবার ঘুম। এর ঠিক বাইরে বের হতে পারছি না। আজ সকাল বেলায় আকাশ ঘন করে মেঘ জমলো, অফিস ঢুকার পর জানালার কাঁচ ঘোলা করে ঝমাঝম বৃষ্টি পড়লো। আমার কলিগ বললো এটা নাকি বাকেটিং, আক্ষরিক বাংলায় যাকে বলে বালতি উল্টে আকাশ থেকে পানি ঢালা – অনেকটা প্রকৃতি ধুয়ে ফেলার জন্য আকাশ থেকে মেঘগুলোকে পানি করে ছুড়ে ফেলা। আর তারপর আকাশ খালি হয়ে যাওয়ার পর সূর্যদেবের তেড়েফুঁড়ে বের হওয়া – এই না হলে মেল্বোর্ন।



ছোট বেলায় কচিকাচার আসরে কিছু বই বের হতো সেগুলো পড়তাম, একেকটা বই জুড়ে থাকতো কিছু গল্প, কিছু কবিতা। আমি কেন জানি কবিতাগুলো আগে পড়তাম (ছোট বেলায় এমনকি এখনও ছন্দ বেশি ভাল লাগে)।তারপর সেবার তিন গোয়েন্দা, লুকিয়ে নিহারঞ্জনগুপ্তের গোয়েন্দা কাহিনী (কিরিটি রায়, সুব্রত মোটামুটি মাথায় ঢুকে গিয়েছিল)। তবে প্রথম যে বইটি পড়ে চোখের পানি ফেলেছিলাম সেটি হলো রবিঠাকুরের কাবুলিওয়ালা। এখনও মনে আছে ড্রয়িংরুমের খাটের নিচে ঢুকে বোনের পাঠ্যপুস্তকের থেকে কোন এক দুপুরে একমনে ‘কাবুলিওয়ালা’ পড়া শুরু করি; পড়া যখন শেষ হয় তখন বুঝতে পারলাম চোখের জলে বইয়ের পাতা ভিজে গেছে। এইরকম বৃষ্টিভেজা দিনের দুপুরে আবার কোন একটা বই পড়তে ইচ্ছা করে যেখানে মনের আবেগটা থমকে না থেকে দমকে দমকে বের হবে, চোখ ভিজবে, মন ভিজবে – যেমনটা প্রকৃতি মেঘ উল্টো করে ভিজিয়ে দেয় এই শহরটাকে যখন-তখন।

শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

আত্নকথন (শীত কাল)

শীতকাল আমার ভাল লাগে না, বাংলাদেশে থাকলে ভাল লাগত শরৎ আর হেমন্তকাল অথবা বৃষ্টির দিনে বারান্দায় বসে সবুজ মাঠের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির ঝমঝমানি দেখা। শীতকালটাকে আমার অনেকটা বিয়োগান্তক লাগে – পাতা ঝরে যায়, ঠান্ডা হিম হিম বাতাস, গায়ে জড়াতে হয় মোটা মোটা কাপড় – খালি মনে হয় কোথায় যাই! এখানকার (মেল্বোর্নে) শীতটা আসে জুনের শুরুতেই – অনেকটা অনেক কোম্পানির নতুন ফিনান্সিয়াল বছর শুরু করার মতো। বছরের ঠিক মাঝ বরাবর একটা ঠান্ডা আমদানিকারক বৃষ্টি সপ্তাহ যায় আর ঠিক তারপরেই শুরু হয় জমাট ঠান্ডা। এই জমাট ঠান্ডা কতটা ঠান্ডা তা আরও ভালভাবে বোঝা যায় যদি কপালগুনে কোন পাহাড়ি এলাকার কাছাকাছি থাকা হয়। সবচে উদ্বিগ্নের ব্যাপার হয় যখন এর সাথে যোগ হয় ঝড়ো বাতাস। আহা কি সে বাতাস, একবার যদি নাকমুখ দিয়ে ঢুকে তবে তা হাঁচি-সর্দির এক পরিনত ভার্সন হয়ে বের হবে।

আমার প্রতিদিন সকালে গাড়ি পার্কের পাশে ফেলে ট্রেনে চেপে অফিসাভিমুখী হতে হয়, সাউদার্নক্রস নামের একটা স্টেশন এ নামি – এটা মেলবোর্নের সবচেয়ে বড় নতুন আর্কিটেকচারে তৈরী স্টেশন, দেখতে অনেকটা কমলাপুর রেলস্টেশনের মতো – তবে বানানো স্টিলের ফ্রেম দিয়ে। কিন্তু কি এককারনে জানিনা, এখানে গরমের দিনেও হিম হিম করা ঠান্ডা লাগে (আমার ধারনা এর #Roof Fluid Dynamics এর জন্য) – আর শীতের দিনের কথা আর নাইবা বললাম। সাধারন ঠান্ডাতেও হাড় কনকনে বাতাস কোন ফাকফোকড় থেকে বইতে শুরু করে কে জানে।

প্রচুর বিষোদাগার শেষে এখন একটু ভাল দিকও বলি, শীতকালের সবচেয়ে সুন্দর দিক হচ্ছে হালকা রোদের আনাগোনা আর সকালের শিশির ভেঁজা - ঘাস ঠিকরে বের হওয়া আলোর ঝলকানি। আমার বাসার সামনে নতুন করে ঘন ঘাস উঠেছে শীতের ঠিক আগে আগে, সেই ঘাসে সারারাত একটু একটু করে শিশির জমে – সকালে যখন কাঁপতে কাঁপতে বাসা থেকে বের হই, তখন চোখের কোনায় জমে থাকা অশ্রুবিন্দুর মতো ঘাসের শীষে জমে থাকা শিশির দেখি – আর সাথে সাথে মনটা মুহূর্ত ভাললাগায় ভরে যায়। তাই আমি আমার সন্তানকে বলে যাব, খেয়াল রেখ আমার শেষ শয়নের উপর যাতে সবুজ ঘাস থাকে আর থাকে যাতে শীতের সকালের ভালবাসার শিশির – যার অনুভবে বুঝতে পারবে কতটা স্বম্প সময় নিয়ে আমাদের এই পৃথিবীতে আসা, আর কতটা ভালবাসা নিয়ে আমাদের সময় আঁকড়ে ধরার নাজুক চেষ্টা ...।    

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

মাইক্রো ব্লগ/দিনলিপি (ছেলের জন্মদিন)

ফেব্রুয়ারীতে লেখা মাইক্রো ব্লগঃ

বাসা ছাড়তে হবে এ’মাসের শেষে; সাথে নতুন বাসায় উঠার সাথে সাথে রাজ্যের কাজ-কারবার শুরু হবে, এদিক দিয়ে অফিসে কাজের মহা চাপ  - এমনি অভূতপূর্ব সময়ে ছেলে আমার ৫ এ পড়লো। বাসায় কোন আয়োজন নাই, কারন সেই একই অযুহাত – ব্যাস্ততায় ব্যাতিব্যাস্ত। সময় করে একটা খেলনার দোকানে গিয়ে ছেড়ে দিলাম ছেলেকে তার পছন্দের খেলনা কিনার, খেলনা দিয়ে ছেলের মন ভুলানো আর কি! এরই মাঝে ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গিয়ে শুনি তার নাকি আধা ঘন্টার পরীক্ষা হবে ; আর সময় শেষে ছেলে তার টিচারকে অবাক করে দিয়ে সবচেয়ে ভাল পরীক্ষা দিয়ে বসে। পরে বুঝলাম এটা পুরোটাই ছেলের মায়ের দিন শেষে ছেলেকে নিয়ে বসার কৃতিত্ব। 

দেশ থেকে কথনের দাদা-দাদী, নানা-নানী, খালা, ফুপু, আপুরা ফোনে wish করতে লাগলো; ছেলে নতুন শেখা সালামের উত্তর-প্রতি উত্তর জানাতে লাগলো। সবশেষে ছেলে যখন ঘুমে আমার আর ছেলের মায়ের মন খারাপ – সময় করে একটা কেকও আনলাম না দেখে। নামায পড়ে দোয়া করলাম আল্লাহর কাছে, ছেলেটা যাতে বেঁচে থাকে সব বিপদ থেকে, হয় যেন বড় মনের মানুষ।