মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

মাইক্রো ব্লগ/দিনলিপি (ছেলের জন্মদিন)

ফেব্রুয়ারীতে লেখা মাইক্রো ব্লগঃ

বাসা ছাড়তে হবে এ’মাসের শেষে; সাথে নতুন বাসায় উঠার সাথে সাথে রাজ্যের কাজ-কারবার শুরু হবে, এদিক দিয়ে অফিসে কাজের মহা চাপ  - এমনি অভূতপূর্ব সময়ে ছেলে আমার ৫ এ পড়লো। বাসায় কোন আয়োজন নাই, কারন সেই একই অযুহাত – ব্যাস্ততায় ব্যাতিব্যাস্ত। সময় করে একটা খেলনার দোকানে গিয়ে ছেড়ে দিলাম ছেলেকে তার পছন্দের খেলনা কিনার, খেলনা দিয়ে ছেলের মন ভুলানো আর কি! এরই মাঝে ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গিয়ে শুনি তার নাকি আধা ঘন্টার পরীক্ষা হবে ; আর সময় শেষে ছেলে তার টিচারকে অবাক করে দিয়ে সবচেয়ে ভাল পরীক্ষা দিয়ে বসে। পরে বুঝলাম এটা পুরোটাই ছেলের মায়ের দিন শেষে ছেলেকে নিয়ে বসার কৃতিত্ব। 

দেশ থেকে কথনের দাদা-দাদী, নানা-নানী, খালা, ফুপু, আপুরা ফোনে wish করতে লাগলো; ছেলে নতুন শেখা সালামের উত্তর-প্রতি উত্তর জানাতে লাগলো। সবশেষে ছেলে যখন ঘুমে আমার আর ছেলের মায়ের মন খারাপ – সময় করে একটা কেকও আনলাম না দেখে। নামায পড়ে দোয়া করলাম আল্লাহর কাছে, ছেলেটা যাতে বেঁচে থাকে সব বিপদ থেকে, হয় যেন বড় মনের মানুষ।  

বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৪

আত্নকথন (১৩-র শেষে অদেখার শুরু)

প্রতি জানুয়ারী মাস শুরু হবার আগে ও পরে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করে। আগের অস্বস্তি হলো – “ধুর আবার একটা বছর জীবন থেকে নাই হয়ে গেল - রং চং হীন, নিরস-নির্জীব”। আর পরের অস্বস্তি হলো – “আবার আরেকটা বছর, কেমন জানি ভয় ধরানো অনুভূতি, না জানি কপালে কি আছে!”। এই আগে-পরের গ্যারাকলে পড়ে আমার কখনই আলাদা করে নতুন বছর শুরুর আনন্দ করা হয় না।

আমি যে রসকসহীন মানুষ এটা আমার কাছের মানুষজন খুব ভালভাবে জানে; নিজের মধ্যে থাকার তীব্র প্রবনতা কখনই ভাংতে পারি নাই। তবুও মাঝে সাঝে সহজ-সরল ব্যাপারগুলো আনন্দ দেয় – এই যেমন ছেলের সাথে বাবাময়তায় বন্ধু সাজা, বউয়ের সাথে ছোট্ট ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে হাসি-ঠাট্টা, মানুষের কাজ-কারবার নিরব ভাবে পর্যবেক্ষন করা, দেশের ছেলেদের ক্রিকেট খেলা দেখা, হাবিজাবি। এর মাঝে কেউ যদি আমাকে বলে – ‘বিভূঁয়ের কি ভাল লাগে?’ এক্ষেত্রে আমার কাছে অনেকক্ষেত্রে উত্তর নেই, আবার কিছুর উত্তরও আছে। কিছু দেশি মানুষের এই দূর বিভূঁই খুবই ভাল লাগে, এমনকি নিজ দেশের থেকেও বেশি। তাদের কথা বার্তা শুনলে মাঝে মাঝে আমার কাছে বিষের মতো লাগে; কিন্তু আমি স্বভাবজাত নিয়মে কিছুই বলি না – মুখ তেতো করে বসে থাকি।

২০১৩ সালে আমি হুট করেই মেলবোর্নে কাঠ-পাকা বাড়ি বানানোর সিদ্ধান্ত নেই; কাঠ-পাকা বললাম, কারন এখানকার বাড়িগূলার মধ্যে কাঠের আধিক্য বেশি (ফাঁপা ইটের মাঝে কাঠ)। আমি খেয়াল করেছি বড় বড় সিদ্ধান্তগুলি আমি হুট করে নেই, লম্বা সময় চিন্তা করে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর থেকে, কম সময় ধরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ভাল হয়। বাড়ি বানানোর সিদ্ধান্ত যতটা তাড়াতাড়ি নিয়েছি, সম্পর্কিত কিছু ছোট-খাট কাজের সিদ্ধান্তগুলা একদমই তাড়াতাড়ি নিতে পারছি না। যতই ভাবনা-চিন্তা-আলাপের মধ্যে যাচ্ছি; ততই মনে হচ্ছে, এই বুঝি কাজের যতি পড়বে।

আগামী বছর (২০১৫) মেলবোর্নে বাংলাদেশ টি২০-র বিশ্বকাপে একটা ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে আসবে; আগ বাড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন করে রাখলাম। জানিনা টিকেট পাব কিনা, তবুও কেন জানি অযথা চিন্তা করে যাচ্ছি। সবচেয়ে মজার কথা হলো, এমসিজি বাসার কত কাছে – অথচ ১৭৫ বছরের পুরোনো এই ক্লাব মাঠে এখনও যাই যাই করেও কেন জানি যাওয়া হয় নাই।

জীবনে কতকিছু এভাবে করা হয় নাই, হবেও না – এটা চলতেই থাকবে; ভাববো এই বছর না, পরের বছর করব – আশায় থাকি, আশাতেই থাকি, করা আর হয় না। এভাবে একটা সময় জীবনের শেষ বছরটা আসবে, শেষ বেলাটা আসবে, আসবে শেষটুকু সন্ধ্যা – আমি আশাতে থাকব শেষ সন্ধ্যার সোনালি সূর্‍্যের শেষ আভাটা দেখার – হয়তো দেখাই হবে না, আবার হয়তো সবই হবে।           

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

মনের রং ...

কানের সামনে সারাক্ষন চোস্ত ইংরেজি’ শুনতে শুনতে কান কেমন জানি অবস অবস লাগে; দেশ ছাড়ার তিন বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও – এখনও নিজেকে পুরোপুরি অভ্যস্ত করে তুলতে পারি নাই। দেখা যাক আর কতদিন লাগে এই অনভ্যস্ততা কাটিয়ে উঠতে। মনে আছে দেশ ছাড়ার সময় মায়ের ভিজে উঠা চোখে একমাত্র ছেলেকে দূরে চলে যাওয়া রোধ করতে না পারার আকুতি; আর বাবার বরাবরের মতোই অভিব্যক্তি লুকানোর করূন চেষ্টা – এ দুটো অভিব্যক্তি বা আবেগায়িত প্রকাশের সাথে আমি কখনই নিজেকে সামলাতে পারিনাই। আর তাই কেন জানি মনে হয়, কিছু জিনিষের সাথে অভ্যস্ততার বা নিজেকে মিশিয়ে ফেলার কোন প্রয়োজন নাই – প্রয়োজন নাই খুব বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠার মন না চাওয়া পরিবেশের সাথে। যদিও অনেকেই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টিয়ে ফেলে সময়ের সাথে সাথে দেশের প্রতি; ভুলে যাওয়ার মিথ্যে অভিনয় করে – কতটা বদলে গেলে নিজেকে রুপক সমাসের মধ্যে পুরোপুরি ফেলে দিতে পারে – সেই চেষ্টা। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা, বড্ড নিষ্ঠুর; দেশ ফেলে আসা পরবাসী মানুষদের পুরোপুরি পাল্টাতে দেয় না – তাই হয়তো অনেকেরই শেষ যাত্রাটা হয় দেশের পানেই।

অস্ট্রেলিয়ায় এসে যে রংটা আমার বেশি চোখে পড়েছে – হয় সাদা না হয় কালো; আমার নতুন অফিসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে বড় বড় দালানগুলার রং-বন্ধন হলো সাদা আর কালো; বাসে-ট্রেনে-ট্রামে উঠলে মানুষের পোশাকে কালো-সাদার আধিক্য অনেক ক্ষেত্রে বাহুল্যও বলা যেতে পারে; আর বৃষ্টির দিনে বড় বড় কালো ছাতাতো আছেই ...। যাই হোক কালো-সাদার কথা বললাম কারন, ডিসেম্বর মাসে ক্রিসমাসের আগে এখানে কড়কড়ে লালটা আর বাকি সব রংকে হারিয়ে দেয় – রাস্তার উপর লাল রঙ্গের তোড়ন, দোকানে-রাস্তায়-এমনকি মানুষের পোষাকেও লাল রঙ্গের ছোয়া, সব রকমের বিজ্ঞাপনে লালটাই আসল ব্যাকগ্রাউন্ড কালার। কিন্তু এতো কিছুর পরও আমার ভিতর ডিসেম্বর মানে সবুজ আর কিছুটা লাল। ডিসেম্বর আসলেই লাল-সবুজ টাকে বেশি করে মনে হয় যেন – “মনের ভিতরের রং, ভালবাসার রং, মায়ার রং, অনুভবের রং, স্বপ্নের রং”।

মানুষ বার বার জন্ম নেয় না – একবার জন্ম নেয়, একটা মাত্র মাতৃভূমি পায়, একবারই কেবল ভালবাসতে শেখে মাতৃভূমির পতাকার রং ... বিজয়ের মাসে আপন দেশের প্রতি ভালবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবার - সবখানে, সবক্ষনে।।      

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৩

এলার্জি (দাড়ি। কমা, প্রশ্নবোধক?)


“প্রথমেই, ইহা একান্তই নিজস্ব এলার্জি বিষয়ক পোস্ট, কাঊকে কোনপ্রকারে আঘাত করিয়া থাকিলে দুঃখিত”
===============================================================

এলার্জি-১
ট্রেনে বাসায় যাচ্ছি, সামনে এক চুমাখাপো এক ভারতীয় গলা ফাটাইয়া ঘ্যান ঘ্যান করতেছে; এই দেশের মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি মোটামুটি সবসময় শুন্যের কোঠায় থাকে। সারা ট্রেনের মানুষ ব্যাপক বিরক্ত ব্যাটার উপর; আমারি মনে হইতেছে উইঠা গিয়া লাথি মারি।

এলার্জি-২
মেলবোর্নে চাইনীজ এত্তো বেশি দেখা যায় যে মাঝে মাঝে মনে হয় আমি চাঙ্কু দেশে থাকি; এদের ব্যবহার বাসে ট্রেনে শান্তই থাকে (দু-একটা বাদে); এরা ভারতীয়দের মতো কমন সেন্সে এতো ভোতা না।

এলার্জি-৩
প্রথম দিকে ভাবতাম সব সাদা মানেই অজি যদিও এইখানে থাকতে থাকতে সবাই অজি হয় (বাঙালি বাদে)। বাঙ্গালির ব্যাপক সমস্যা এইখানে এরা এই ব্যাপারে আধাআধি (অন্য সময় লিখব অস্ট্রেলিয়ায় বাঙ্গালীর কথা, এখন না); যাই হোক সাত রকমের সাদা মানু্ষের ব্যবহারও সাতশ রকমের। এদের চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই আসলে মনের ভেতর এদের কি চলে - কেউ মন ভার করেও সারাদিন মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে দিন পার করে, কথায় কথায় বলে ভাল আছি, আর বেশি মেজাজ খারাপ থাকলে শুধুমাত্র বলে ‘not bad’; এরা মনের কথা মনে তালা মেরে রাখতে বড়ই ওস্তাদ।

এলার্জি-৪
এই খানে পিচ্চি পিচ্চি দুধের বাচ্চাদের ডে কেয়ারে বাবা-মাদের ফেলে যাওয়ার মতো হৃদয় বিদারক কাজ মনে হয় আর দ্বিতীয়টি নাই। ডে কেয়ারে বাচ্চারা ঠান্ডায় ফ্লোরে পড়ে থাকে, নির্দিষ্ট পরিমান খাওয়া ভাগ করে খেতে শিখে, ভরা রোদে পুড়তে পুড়তে খেলা শিখে – এগুলো যে খারাপ তা না, কিন্তু আমার অস্বস্তি লাগে যখন ভাবি কি হয় নিজের দেশের মতো সব মা’রা সকাল বেলায় আদর করে বাচ্চাকে খাইয়ে দেবে, নিষেধ করবে ভরা রোদে না যাওয়ার, ছোট বাচ্চার শৈশব পাবে সারাটাক্ষন মায়ের ছায়াতল।