মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৩

এলার্জি (দাড়ি। কমা, প্রশ্নবোধক?)


“প্রথমেই, ইহা একান্তই নিজস্ব এলার্জি বিষয়ক পোস্ট, কাঊকে কোনপ্রকারে আঘাত করিয়া থাকিলে দুঃখিত”
===============================================================

এলার্জি-১
ট্রেনে বাসায় যাচ্ছি, সামনে এক চুমাখাপো এক ভারতীয় গলা ফাটাইয়া ঘ্যান ঘ্যান করতেছে; এই দেশের মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি মোটামুটি সবসময় শুন্যের কোঠায় থাকে। সারা ট্রেনের মানুষ ব্যাপক বিরক্ত ব্যাটার উপর; আমারি মনে হইতেছে উইঠা গিয়া লাথি মারি।

এলার্জি-২
মেলবোর্নে চাইনীজ এত্তো বেশি দেখা যায় যে মাঝে মাঝে মনে হয় আমি চাঙ্কু দেশে থাকি; এদের ব্যবহার বাসে ট্রেনে শান্তই থাকে (দু-একটা বাদে); এরা ভারতীয়দের মতো কমন সেন্সে এতো ভোতা না।

এলার্জি-৩
প্রথম দিকে ভাবতাম সব সাদা মানেই অজি যদিও এইখানে থাকতে থাকতে সবাই অজি হয় (বাঙালি বাদে)। বাঙ্গালির ব্যাপক সমস্যা এইখানে এরা এই ব্যাপারে আধাআধি (অন্য সময় লিখব অস্ট্রেলিয়ায় বাঙ্গালীর কথা, এখন না); যাই হোক সাত রকমের সাদা মানু্ষের ব্যবহারও সাতশ রকমের। এদের চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই আসলে মনের ভেতর এদের কি চলে - কেউ মন ভার করেও সারাদিন মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে দিন পার করে, কথায় কথায় বলে ভাল আছি, আর বেশি মেজাজ খারাপ থাকলে শুধুমাত্র বলে ‘not bad’; এরা মনের কথা মনে তালা মেরে রাখতে বড়ই ওস্তাদ।

এলার্জি-৪
এই খানে পিচ্চি পিচ্চি দুধের বাচ্চাদের ডে কেয়ারে বাবা-মাদের ফেলে যাওয়ার মতো হৃদয় বিদারক কাজ মনে হয় আর দ্বিতীয়টি নাই। ডে কেয়ারে বাচ্চারা ঠান্ডায় ফ্লোরে পড়ে থাকে, নির্দিষ্ট পরিমান খাওয়া ভাগ করে খেতে শিখে, ভরা রোদে পুড়তে পুড়তে খেলা শিখে – এগুলো যে খারাপ তা না, কিন্তু আমার অস্বস্তি লাগে যখন ভাবি কি হয় নিজের দেশের মতো সব মা’রা সকাল বেলায় আদর করে বাচ্চাকে খাইয়ে দেবে, নিষেধ করবে ভরা রোদে না যাওয়ার, ছোট বাচ্চার শৈশব পাবে সারাটাক্ষন মায়ের ছায়াতল। 


শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৩

আত্নকথন (গ্রীষ্ম)

খুব গরম এখন মেলবোর্নে, গরম লু হাওয়ায় যেন সবকিছু তিরতির করে কাঁপছে। এখানকার মানুষজন সাধারনত গ্রীষ্মকালটা উপভোগ করার চেষ্টা করে, কিন্তু তারাও যেন এবার এই কাঠফাঁটা গরমে ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতো তড়পাচ্ছে। ভেবেছিলাম ক্রিসমাসের ছুটিতে দূরে কোথাও টো টো করে বেড়াব, কিন্তু সেটাও হলো না - কারন রোদের খরতাপে একটু বেরোলেই চামড়া পুড়ে একশা, নিজেকে তখন বার-বি-কিউ মুরগি ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। আমার মাথা ব্যাথার হালকা সমস্যা আছে, বেশি গরমে মাথায় ঝিন ঝিন ব্যাথা করে – রুমটা অন্ধকার করে চুপচাপ শুয়ে থাকতে হয়।  তখন এইরকম একটা গান শুনলে ভাল লাগে -


সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১২

আত্নকথন (বৃষ্টি )

বাইরে আকাশের তর্জন-গর্জন চলছে আকাশ ভাঙ্গবে বলে; অস্ট্রেলিয়ায় সাধারনতঃ ঝুম বৃষ্টি হয় না – এই আসে আর এই যায়। ছন্নছাড়া বৃষ্টি বলা যায়। এখানে থাকাতে এই হুটহাট বৃষ্টির মাঝে বেশ কয়েকবারই পড়তে হয়েছে; আর সাথে শিখতে হয়েছে কিভাবে ঝেড়ে দৌড় দিতে হয়। বাংলাদেশে থাকতে হালকা বৃষ্টির দমকা হাওয়াটা অসাধারন লাগতো। এইখানে পলকা বৃষ্টির সাথে কনকনে ঠান্ডা দমকা হাওয়াটা বিষের মতো মনে হয়। প্রচন্ড শীত আর বৃষ্টির বায়বীয় আবেশ তখন মিলেমিশে একাকার হয়ে শরীরে কাঁটা তুলে জানান দেয়।

আমার মনে আছে দেশে থাকতে একটানা কয়েকদিন বৃষ্টি পড়তো, তখন কেন জানি আমার খুব আনন্দ লাগতো। সবচেয়ে বেশি ভাল লাগতো বাসার সামনের খোলা মাঠটার সবুজ ঘাসগুলো - যা বৃষ্টির পানিতে ক্রমাগত ভিজে ঝা ঝা সবুজাভ হয়ে উঠতো। বেশিরভাগ সময় আমি আমার রুমের সামনের বারান্দায় একটা শক্ত কাঠের চেয়ারে বসে থাকতাম; শক্ত চেয়ারে আলতো হয়ে বসে বৃষ্টিবিলাসে মন মাতিয়ে তুলতাম। এখনো মনে পড়ে কত্তো কথা একা একা বলতাম। কথার মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবার তীব্র বাসনাটা আজ অব্দি গেল না।

মনে আছে মাথার চুল ভেঁজা, শরীর ভেঁজা – তবুও শুধু ভাললাগার জন্য কত বৃষ্টির মাঝে হেঁটেছি। ধানমন্ডির চেনা অচেনা গলি পেরিয়ে শুধু ভাললাগাকে সম্বল করে আমার হাঁটা চলতে থাকতো। আর সেই আমি আজ বৃষ্টি থেকে পালাতে ঝেড়ে দৌড় দেই। সময়টা বোধহয় এভাবেই পাল্টায়।

আমার বিশাল রুমে সাতটা কাঁচের জানালা ছিল, মনে আছে যখন কালো আকাশে বিদ্যুত চমকাতো – মনে হতো হাজার ভোল্টের আলো জ্বলে উঠেছে সাত জানালার পাশে; ধবধব করছে জানালার কাঁচগুলো। আমি ভীষন চমকে উঠতাম, কারন কিছুদিন আগেই জানালার পাশের সজনে গাছটা বজ্রাহত হয়েছিল। আহা, আজ আর চমকে উঠি না, ঘুমের মাঝে ছেলেকে বরং জাপটে ধরি - যাতে ও না চমকায়।

রবিবার, ১ এপ্রিল, ২০১২

ছদ্দ

নিজের কিছু ছন্নছাড়া পংক্তি দিলাম এখানে; সময়-অসময়ে ছদ্দ মিলিয়ে পদ্য বানানোর বৃথা চেষ্টাঃ 

১। সময়ের টাইমলাইন ঃ 

শুন্য অদ্ভূতুড়ে আবেগ, জানিনা কার জন্যে,
     জানি শুধু সময় জানে
সময় বলবে কোন এক সময়ে আমায়
     এই তো সেই, যার অপেক্ষায় তুমি।
সবাই মোরা সেই সময়ের প্রতীক্ষায়
     এ সময় যেন আর থমকে না দাড়ায়। 

২। দেশের জন্য যখন নিজের ভেতরটায় হুহু করেঃ 

এদিক সেদিক ঘুরে ফিরে, সময় কাটে ফুরফুরিয়ে
দিনের শেষে ফিরে দেখি মনটা নিরুদ্বেশ,
মনের ভিতর ধুধু করে, হা হা বাড়ে তরতরিয়ে
ফিরব কবে তোমার কাছে, আমার ছোট্ট দেশ।

৩। নিজের বাড়ন্ত বয়স নিয়ে উদ্বিগ্ন যখনঃ

গল্প হল শুরু, শেষটা কবে গুরু
এমনি করেই চলতে চলতেই হচ্ছি কেবল বুড়ো।

৪। আমার অর্ধাঙ্গিনী যখন চলন্ত গাড়ি থেকে মাইক্রো সাইজের টিস্যু ফেলে লিটারিঙ্গের ফাইন খায়ঃ 

শুভংকরের পুলিশ, বানিয়ে ছাড়ল ফুলিশ ...
বলে দিনে দুপুরে কি যা তা ফেলিস!